বিজ্ঞান পড়লে যে যে উপকার পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞানের ভালোলাগা থেকেই আমরা বিজ্ঞান পড়ব। যদি বিজ্ঞান কাছ থেকে দেখেন তবে বুঝবেন বিজ্ঞান কি। যদি বিজ্ঞান নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে পারেন তবেই বিজ্ঞানের কাছে যেতে পারবেন।বিজ্ঞানের খুব কাছে যেতে চাইলে ত্যাগ করতে হয় অনেক কিছু। তবে প্রতিদানরূপ পাবেন পৃথিবীর ধ্বংস হবার আগ পর্যন্ত খাতায় আপনার নাম। আপনি যদি একজন বিজ্ঞানী হতে পারেন তবে আপনার জীবন স্বার্থক। কারণ বিজ্ঞানীরা আমাদের অনেক কিছু উপহার দিয়ে আসছেন। তাদের দেখলেই বুকের ভেতর শ্রদ্ধায় ভরে উঠে। বিজ্ঞানীদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকার মূলেই আছে তাদের উন্নয়নমূলক কাজ। আপনি যদি বিজ্ঞান ব্যাবহার করে জনগণের উন্নয়ন করতে পারেন তবে জনগণ আপনার নাম আজীবন মনে রাখবে। ইতিহাসে আপনার নাম হবে উল্লেখ করার মতো। বিজ্ঞান আমাদের উন্নয়নের হাতিয়ার স্বরূপ। বিজ্ঞান আছে বলেই আমাদের জীবন আরো সহজ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞান ভালো লাগে কেন ? … বিজ্ঞানের মজা অনেকটা যেন ম্যাজিকের মতই তাই ভালো লাগে।


বিজ্ঞান নিয়ে আমার জীবনের একটা দারুণ মূহুর্তে হলো, অনেক ছোট ছোট বিজ্ঞানের পরীক্ষা হাতে-নাতে নিজে করার একটা আনন্দ। এইরকম অনেক ছোট ছোট পরীক্ষা না হয় পরে কোনো প্রবন্ধে সবিস্তরে লেখা যাবে। মানুষ এই পৃথিবীতে এসেছে প্রায় ২ লক্ষ বছর আগে।তখন থেকেই আমাদের পূর্ব পুরুষদের অনেক প্রতিকূল পরিবেশ থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে চলতে হয়েছে ।  উদ্ভাবনী শক্তি এবং অজানাকে জানার অসীম কৌতুহল সম্বল করেই আমাদের পূর্বপুরুষরা আজকে সফল হয়েছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতির পিছনে প্রায় সর্বদা অজানাকে জানার একটা অনুপ্রেরণা কাজ করে। আর সেই সাথে থাকে মানব কল্যাণের তাগিদ ।

স্কুলে প্রবেশ করা মাত্রই অনেকেই মনে করে স্কুলে প্রবেশ করা মানেই পড়াশোনার প্রয়োজন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আসলে স্কুল মানে সেটা না! এটা প্রয়োজন যে সে কি পড়বে এবং কেন পড়বে? সমস্ত বিষয়গুলিকে তাদের নিজস্ব কারণের জন্য চর্চা করা দরকার। বিজ্ঞান যত উন্নত হতে শুরু করেছে তত তার নতুন নতুন শাখা তৈরী হয়েছে। ছোট বেলায় আমি বিজ্ঞান বলতে শুধু বইয়ের পড়াগুলোই জানতাম। তারপর যত বড় ক্লাসে উঠি ততটা ভাগ হতে থাকে- ভৌত বিজ্ঞান, জীবন বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ইত্যাদি।

আমার জীবনে বিজ্ঞান একটা অংশ । যার প্রধান কারণ হলো বিজ্ঞানের মজা। বিজ্ঞানের মজা বুঝতে পারলেই একজন প্রকৃত বিজ্ঞান প্রেমিক হতে পারা যায়। আসলে বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে নানান ভাবে প্রভাবিত করে। এমনকি, তার সাফল্যের উপর সরাসরি নির্ভর করে অনেক মানুষের ভাগ্য। যেমন – আমরা যদি বিজ্ঞান না পেতাম তখন কি হতো? বিজ্ঞান না থাকলে বিভিন্ন দূর্যোগের ব্যাপারে আমরা জানতে পারতাম না। দূর্যোগ কখন কিভাবে আসবে সেটাও অজানা থাকত যার ফলে প্রাণ হারাত অসংখ্য জীব-জন্তু।

এছাড়া বিজ্ঞান পড়লে আমরা যেমন কুসংস্কার থেকে মুক্ত হই, তেমনি বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোই আমাদের সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে চলে। আমাদের জীবন যাতে আরও উন্নত হয় তার জন্য বিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা করেন।

গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান জানা

বিজ্ঞানের গবেষণাকে দুভাগে ভাগ করা যায় – মৌলিক গবেষণা (fundamental research), আর ব্যবহারমূলক গবেষণা (applied research)।ইন্টারনেটের কথায় আসলে একসময় বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে তথ্যের সহজ আদান প্রদানের জন্য তৈরী হয়েছিল ইন্টারনেট অথবা World Wide Web (www)। আর এখন বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখা থেকে ট্রেনের টিকিট কাটা – সেই ইন্টারনেটই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা অঙ্গ হয়ে উঠেছে। আবার, চিকিৎসা শাস্ত্রে এখন এমন  অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার হয় যার আবির্ভাব সেই মৌলিক কণার গবেষণা থেকে। ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় এবং রোগ নির্ণয়ে যে রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয় তার প্রযুক্তির উদ্ভাবনও হয়েছে এই মৌলিক গবেষণার সাথে সাথে।জানানো উচিৎ হবে, খালি বিজ্ঞানীদেরই বিজ্ঞান পড়লে বা ভাবলে চলবে না, সবাইকে এই নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে।অনেক কাজ আছে যে কাজে বিজ্ঞানীরা অনেক অর্থ ব্যয় করে ফেলেন সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উচিৎ হবে তাদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করা। এটা সমাজের স্বার্থে ব্যয় করা আমাদের উচিৎ বলে মনে করি।

*সব শেষে বলতেই হয় – প্রত্যেক প্রযুক্তির যেমন ভালো দিক থাকে তেমনি তার একটা অন্ধকার দিকও থাকে। এটা লক্ষ্যনীয় যে আজকের দিনে পড়াশোনার পাশা পাশি ছাত্রদের খেলা ধুলার টান অনেক কমে গেছে। খেলার সময়টা এখন অনেকটাই এই প্রযুক্তি-বিদ্যার শিকার হয়েছে। আরো একটা দিকে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন সেটা হলো ইন্টারনেট থেকে নকল করার প্রবণতা যা বর্তমান স্কুল পড়ুয়াদের ওপর খুব খারাপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

2 Replies to “বিজ্ঞান পড়লে যে যে উপকার পাওয়া যাবে।

Leave a Reply