মেসেঞ্জার গ্রুপে, WhatsApp গ্রুপগুলোতে সামান্য জ্ঞান নিয়ে ফতুয়াবাজী করে বেড়ান তাদের সংশোধনের জন্য এই পোস্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ!!

অনলাইন মুফতি!
—————————–
বর্তমান আমাদের কিছু
ভাইদের অবস্থা হয়েছে এমন
যে, দুনিয়াবী বিষয়ে কোন
বুদ্ধির প্রয়োজন হলে তারা
লক্ষ টাকা খরচ করে
বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির শরণাপন্ন
হবে কিন্তু দ্বীনের ব্যপারে
প্রশ্নের উত্তর জানার
প্রয়োজন হলে ওই একই ব্যক্তি
তখন আলেম আর জাহেলের
মধ্যে পার্থক্য করেনা!
আসলে সমস্যাটা কি জানেন?
বর্তমানে ফেইসবুকের
ফিত্নায় পড়ে বহু মূর্খ লোকও
দ্বীন মৌলিক জ্ঞান ছাড়াই
অনেক লম্বা লম্বা প্রবন্ধ
লেখা শুরু করছে ! যার ফলে
লোকেরা আলেমদের কাছে
না গিয়ে জাহেলদেরকে
দ্বীনের ভিবিন্ন বিষয়ে
প্রশ্ন করছে আবার তারাও
দ্বেদারছে উত্তর বিলি করা
শুরু করছে!(যেহেতু মোবাইল
বা কম্পিউটারে হাতের
কাছেই পাওয়া যায়)! অথচ
কুরআন ও সুন্নাহর বিজ্ঞ
আলিমদের নিকট হতে
ফাতাওয়া না নিয়ে অজ্ঞ-
মূর্খ লোকদের নিকট হতে
ফাতাওয়া নেওয়া ও
ফাতাওয়া দেওয়া উভয়টাই
ব্যক্তির পথভ্রষ্টাকে
তরান্বিত করে!
এ প্রসংগে প্রিয়নবী
মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ
বলেছেন, “আল্লাহতালা
বান্দার অন্তর হতে ইল্ম বের
করে নিবেন না বরং তা
উঠিয়ে নিবেন আলেমদের
মৃত্যুর মাধ্যমে। অবশেষে যখন
কোন আলেম বাকী রাখবেন
না, তখন লোকেরা
জাহিলদের গ্রহণ করবে
“আলেম” হিসেবে।যখন
তাদেরকে মাসআলা
জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন
তারা ফাতাওয়া দিবে- না
জেনে। ফলে তারা
নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং
অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।
(সহীহ বুখারী)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো
বলেছেনঃ “ফিতনার যুগে
কিছু লোক এমন হবে, যারা
জাহান্নামের দরজার দিকে
মানুষকে দাওয়াত দিবে
(অর্থাৎ তাদের দাওয়াত এমন
ভ্রষ্টতাপূর্ণ হবে, যা
জাহান্নামের দিকে নিয়ে
যাবে); যারা তাদের ডাকে
সাড়া দিবে তাদেরকে
জাহান্নামে নিক্ষেপ
করবে”।
[সহীহ বুখারীঃ হাদীস
নং-৩৩৩৬, ৬৬৭৯]
.
❒ ফতোয়া প্রদানে
সালাফের সাবধানতা!
১ম বক্তব্য:
ইমাম ইবনে আব্দিল বার রহ.
উকবাহ বিন মুসলিম থেকে
বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
আমি ৩৪ মাস আব্দুল্লাহ ইবনে
ওমর রা. এর সান্নিধ্য গ্রহণ
করি৷ অধিকাংশ প্রশ্নের
উত্তরেই তিনি যা বলতেন
তা হলো `লা আদরি` (আমার
জানা নেই)। অতপর তিনি
আমার দিকে ফিরে
তাকিয়ে বলতেন, `তুমি কি
জানো এই লোকগুলো কী
চায়? তারা চায়, আমাদের
পিঠকে তাদের
জাহান্নামে যাওয়ার সেতু
বানাতে`!
২য় বক্তব্য:
খতীবে বাগদাদী রহ. নিজ
সনদে বারা বিন আযেব রাদ.
থেকে বর্ণনা করেন, তিনি
বলেন বদরের যুদ্ধে অংশ
নেয়া তিনশত সাহাবীর
সাথে আমার সাক্ষাৎ
হয়েছে, যাদের প্রত্যেকেই
চাইতেন ফতোয়া প্রদানের
ক্ষেত্রে অন্য কেও সমাধান
বলুক। তাঁরা নিজেরা
ফতোয়া প্রদানে উৎসাহী
হতেন না।
৩য় বক্তব্য:
বিখ্যাত তাবেয়ী মুহাম্মদ
বিন সিরিন রহ. এর কাছে
যখন কেও হালাল হারামের
ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হত
তখন তার চেহারার রং
পরিবর্তন হয়ে যেত। কেমন
যেন তিনি আগের অবস্থাতে
নেই। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এমন
প্রভাব দেখা যেত প্রশ্ন করা
হলে ।
৪র্থ বক্তব্য:
ইমাম মালেক রহ. এর
ব্যাপারে তার এক ছাত্রের
বক্তব্য হলো, `আল্লাহর কসম!
ইমাম মালেককে যখন কোন
মাসয়ালার ব্যাপারে প্রশ্ন
করা হত, তখন তার অবস্থা এমন
পরিলক্ষিত হত যেন তিনি
জান্নাত আর জাহান্নামের
মাঝখানে দন্ডায়মান।
৫ম বক্তব্য:
ইমাম আবু হানীফা রহ. বলেন,
ইলম ধ্বংস হলে আল্লাহ
তায়ালা শাস্তি দিবেন এই
ভয় যদি না থাকত তবে আমি
কাউকে ফতয়া দিতাম না।
কারণ এতে অন্যের উপকার হয়
বটে, কিন্তু নিজের ঘাড়ে
গোনাহের বোঝা চাপানো
হয়। ইমাম আবু হানীফা রহ.
তার দেয়া ফতোয়ার
ব্যাপারের হাশরের
ময়দানে জবাবদিহিতার ভয়
করতেন।
৬ষ্ঠ বক্তব্য:
খতীবে বাগদাদী রহ. বলেন,
যারা ফতোয়া প্রদানে খুব
উৎসাহী হয় আর ফতোয়া
দেয়ার পেছনে লেগে থাকে
তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে
খুব কমই তাওফিকপ্রাপ্ত হয়
এবং অশান্তি বিচ্ছৃংখলা
সৃষ্টি করে।
[জামিউ বয়ানিল ইলমি ওয়া
ফাদলিহি – ৪২৬, আল ফকীহ
ওয়াল মুতাফাক্কিহ ২/৩৪৯]
৭ম বক্তব্য:
ইমাম ইবনুল জাউযী রহঃ
বলেন, ইমাম মালেক বিন
আনাস রা. কে এক ব্যক্তি
একটি মাসআলা সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করল।
ইমাম মালিক বললেন: এর
উত্তর আমার জানা নাই।
লোকটি বলল: আমি এই
মাসআলাটির উত্তর জানার
জন্য কত দূরের পথ পাড়ি
দিয়ে আপনার নিকট এসেছি
আর আপনি বলছেন, আপনি
জানেন না?!!
ইমাম মালেক বললেন: আপনি
নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে
মানুষকে বলে দিন যে,
মালেককে প্রশ্ন করেছিলাম
কিন্তু বলেছে, সে জানে
না।”
[ছাইদুল খাতের, অনুচ্ছেদ: ১৪৭]
.
❒ কার কাছ থেকে ফতওয়া
জেনে নিবেন?
✍ মহান আল্লাহ তাআ’লা
বলেন,
ْﻥِﺇ ِﺮْﻛِّﺬﻟﺍ َﻞْﻫَﺃ ﺍﻮُﻟَﺄْﺳﺎَﻓ
َﻥﻮُﻤَﻠْﻌَﺗ ﺎَﻟ ْﻢُﺘْﻨُﻛ
উচ্চারণঃ ফাস-আলু আহলায-
যিকরি ইন কুনতুম লা
তাআ’লামুন।
অর্থঃ যদি তুমি না জানো,
তাহলে ‘আহলে
যিকির’ (যারা জ্ঞানী/
আলেম) তাদের কাছ থেকে
জিজ্ঞাসা করে জেনে
নাও। সুরা আল-আম্বিয়াঃ ৭।
আয়াতের তাফসীরঃ এই
আয়াতে কোন বিষয় জানা
না থাকলে তা আলেমদের
দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার
জন্য তাকীদ দেওয়া হয়েছে,
যা সাধারণ মানুষের জন্য
অপরিহার্য; যা কেউ
অস্বীকার করতে পারে না।
সুতরাং এই আয়াতের অর্থ হল,
আলেমদের সাহায্য নিয়ে
শরীয়তের উক্তি ও বক্তব্য
সম্পর্কে জেনে নাও।
(আহসানুল বায়ান)
✍ মালিক বিন আনাস
(রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

ﻯﻮْﺘَﻔﻟﺍ ﻲﻓ ﺖْﺒَﺟﺃ ﺎﻣ
ﻢَﻠْﻋﺃ ﻮﻫ ﻦﻣ ﺖﻟﺄﺳ ﻰﺘﺣ
ﺎﻌِﺿﻮَﻣ ﻲﻧﺍﺮَﺗ ﻞﻫ : ﻲﻨﻣ
، ﺔَﻌﻴﺑَﺭ ﺖﻟﺄﺳ ؛ ؟ ﻚﻟﺬﻟ
، ﺪﻴﻌﺳ ﻦﺑ ﻰﻴﺤﻳ ﺖﻟﺄﺳﻭ
ﺖﻠﻘﻓ ، ﻚﻟﺬﺑ ﻲﻧﺍﺮَﻣَﺄﻓ
: ﻪﻠﻟﺍ ﺪْﺒَﻋ ﺎﺑﺃ ﺎﻳ : ﻪﻟ
ﺖﻨﻛ : ﻝﺎﻗ ؟ ﻙْﻮَﻬَﻧ ﻮﻟ
ﻞُﺟَﺮﻟ ﻲﻐَﺒﻨَﻳ ﻻ ؛ ﻲﻬَﺘْﻧﺃ
ﺀﻲَﺸِﻟ ﻼﻫﺃ ﻪَﺴﻔَﻧ ﻯﺮﻳ ﻥﺃ
ﻢَﻠْﻋﺃ ﻮﻫ ﻦﻣ ﻝَﺄﺴَﻳ ﻰﺘﺣ ،
ﻪﻨﻣ.“
“আমি ফতোয়ার জবাব
দিইনি, যতক্ষণ না পর্যন্ত
আমার চেয়ে জ্ঞানী
ব্যক্তির কাছে আমি
জিজ্ঞেস করেছি যে, তিনি
আমাকে এর উপযুক্ত মনে
করেন কিনা। আমি
রবী‘আহ্কে জিজ্ঞেস
করেছি, আমি ইয়াহইয়া বিন
সা‘ঈদকে জিজ্ঞেস করেছি।
তাঁরা আমাকে এর নির্দেশ
দিয়েছেন। বর্ণনাকারী
বলেন, আমি তাঁকে (ইমাম
মালিককে) বললাম, হে আবূ
‘আব্দুল্লাহ, তাঁরা যদি
আপনাকে নিষেধ করতেন ?
তিনি বললেন, তাহলে আমি
বিরত থাকতাম। কোন
ব্যক্তির উচিত নয় নিজেকে
কোনো বিষয়ের উপযুক্ত মনে
করা, যতক্ষণ না সে
(সংশ্লিষ্ট বিষয়ে) তার
চেয়ে বেশি জানা
ব্যক্তিকে (নিজের)
ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে।”

ইমাম মালিক
(রাহিমাহুল্লাহ) আরো
বলেন,

ﻲِﻟ َﺪِﻬَﺷ ﻰَّﺘَﺣ ُﺖْﻴَﺘْﻓَﺃ ﺎَﻣ
َﻚِﻟَﺬِﻟ ٌﻞْﻫَﺃ ﻲِّﻧَﺃ َﻥﻮُﻌْﺒَﺳ.“
“আমি ততক্ষণ পর্যন্ত
ফাতওয়া দিইনি, যতক্ষণ না
সত্তরজন (‘আলিম) আমার
ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন
যে, আমি এ কাজের উপযুক্ত।”

ইসবাহানী (রাহিমাহুল্লাহ),
হিলইয়াতুল আউলিয়া, খণ্ড: ৬;
পৃষ্ঠা: ৩১৬; আছার নং: ৮৯৭০]
এইভাবে পূর্ববর্তী আলিমরা
যখন কাউকে “আলিম”
হিসেবে ঘোষণা করেন,
আমরা সাধারণ মানুষেরা ঐ
আলেমদেরকে অনুসরণ করবো,
তাদের কাছ থেকে ইলম
নেবো – তবে অন্ধভাবে নয়,
কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে।
.
❒ আলিমদের হাওয়ালা
দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা!
বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ
আলিমদের একজন আশ শাইখ
আল আল্লামাহ, ঈমাম
মুহাম্মাদ বিন ছলেহ আল
উছাইমীন রহিমাহুল্লাহকে
জিজ্ঞেস করা হয়:
ﻦﺑﺍ ﺦﻴﺸﻟﺍ ﻞﺌﺳﻭ
ﺎﻣ : ﻪﻠﻟﺍ ﻪﻤﺣﺭ ﻦﻴﻤﻴﺜﻋ
ﺖﻤﻠﻋ ﺍﺫﺇ ﺀﺎﺘﻓﻹﺍ ﻢﻜﺣ
ﺦﻴﺷ ﻦﻣ ﻝﺍﺆﺴﻟﺍ ﻯﻮﺘﻓ
؟ ﺀﺎﻤﻠﻌﻟﺍ ﺭﺎﺒﻛ ﻦﻣ
কোন প্রশ্নের উত্তরে
শীর্ষস্থানীয় আলেমদের
মধ্যকার কোন শায়খ যেই
ফাতওয়া দিয়েছেন তা
জেনে নিয়ে যদি আমি
ফাতওয়া দেই, তবে এর
বিধান কী?
আল ইমাম মুহাম্মদ বিন
উছাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)
উত্তরে বলেন:
ﻝﻮﻘﺑ ﺀﺎﺘﻓﻹﺍ” :ﺏﺎﺟﺄﻓ
ﻦﻳﺬﻟﺍ ﺀﺎﻤﻠﻌﻟﺍ ﺾﻌﺑ
، ﻪﺑ ﺱﺄﺑ ﻻ ﻢﻬﺑ ﻖﺜﺗ
ﺔﻐﻴﺻ ﻦﻜﺘﻟ ﻦﻜﻟﻭ
ﻥﻼﻓ ﻝﺎﻗ :ﻚﻟﻮﻘﺑ ﺀﺎﺘﻓﻹﺍ
ﺖﻨﻛ ﺍﺫﺇ ، ﺍﺬﻛﻭ ﺍﺬﻛ
ﻦﻣﻭ ، ﻪﻟﻮﻗ ﻦﻣ ﺎﻨﻘﻴﺘﻣ
ﻲﺘﻟﺍ ﺓﺭﻮﺼﻟﺍ ﻩﺬﻫ ﻥﺃ
ﻲﺘﻟﺍ ﻲﻫ ﺎﻬﻨﻋ ﺖﻠﺌﺳ
. ﻢﻟﺎﻌﻟﺍ ﺍﺬﻫ ﺎﻫﺪﺼﻘﻳ
: ﺎﻣﺰﺟ ﻪﺑ ﻲﺘﻔﺗ ﻥﺃ ﺎﻣﺃﻭ
؛ ﻲﻐﺒﻨﻳ ﻻ ﺍﺬﻬﻓ
ﻪﺑ ﺖﻴﺘﻓﺃ ﺍﺫﺇ ﻚﻧﻷ
ﻯﻮﺘﻔﻟﺍ ﺖﺒﺴﻧ ﺎﻣﺰﺟ
ﺍﺫﺇ ﺎﻣﺃﻭ ، ﻚﻴﻟﺇ
، ﻙﺮﻴﻏ ﻦﻋ ﺎﻬﺘﻠﻘﻧ
ﻦﻣ ﻢﻠﺴﺗ ﻭﺍﺭ ﺖﻧﺄﻓ
، ﻯﻮﺘﻔﻟﺍ ﻩﺬﻫ ﺔﻌﺒﺗ
ﺐﺴﻨﻳ ﻥﺃ ﻦﻣ ﻢﻠﺴﺗﻭ
. ﻪﻟ ﻼﻫﺃ ﺖﺴﻟ ﺎﻣ ﻚﻴﻟﺇ
ﺪﻠﻘﻤﻟﺍ ﻥﺎﺴﻧﻹﺎﻓ
ﺐﺴﻨﻳ ﻥﺃ ﻪﻟ ﻲﻐﺒﻨﻳ
ﻻ ﻩﺪﻠﻗ ﻦﻣ ﻰﻟﺇ ﻝﻮﻘﻟﺍ
ﻱﺬﻟﺍ ﻑﻼﺨﺑ ، ﻪﺴﻔﻧ ﻰﻟﺇ
ﻢﻜﺣ ﻰﻠﻋ ﻝﺪﺘﺴﻳ
ﺏﺎﺘﻜﻟﺍ ﻦﻣ ﺔﻟﺄﺴﻤﻟﺍ
ﻞﻫﺃ ﻦﻣ ﻮﻫﻭ ، ﺔﻨﺴﻟﺍﻭ
ﻥﺃ ﺱﺄﺑ ﻼﻓ : ﻝﻻﺪﺘﺳﻻﺍ
ﻰﻟﺇ ﺀﻲﺸﻟﺍ ﺎﺒﺳﺎﻧ ﻲﺘﻔﻳ
ﻪﺴﻔﻧ
অর্থঃ “নির্ভরযোগ্য
আলেমদের কারো বক্তব্য
দ্বারা ফাতওয়া প্রদানে
কোন সমস্যা নেই। কিন্তু
ফাতওয়া দেবার সময় এভাবে
শব্দচয়ন করতে হবে – “অমুক এমন
এমন বলেছেন”, যখন তুমি তার
বক্তব্যের ব্যাপারে
নিশ্চিত থাকবে এবং
প্রশ্নটি যেই ভঙ্গিতে করা
হয়েছে সেই আলেমরও
উদ্দেশ্যে যেন তার অনুরূপ হয়।
কিন্তু, তুমি নিজে দৃঢ়
অবস্থান গ্রহণ করে ফাতওয়া
দিবে, এমনটি উচিৎ নয়।
কেননা যখন তুমি দৃঢ় অবস্থান
গ্রহণ করবে, তখন এই
ফাতওয়ার সম্পর্ক তোমার
সাথে যুক্ত হয়ে যাবে, অথচ
তুমি ফাতওয়া দেয়ার যোগ্য
নও।
মুকাল্লিদ ব্যক্তির জন্য
উচিৎ হচ্ছে সে যার তাকলীদ
করছে, তার দিকে বক্তব্যকে
সম্পৃক্ত করবে, নিজের দিকে
নয়। কিন্তু যিনি কিতাব ও
সুন্নাহ থেকে মাসআলার
বিধান সম্পর্কে দলীল প্রদান
করেন, তিনি এর ব্যতিক্রম।
কেননা তিনি দলীল
প্রদানের যোগ্যতা রাখেন।
সুতরাং তার জন্য নিজের
দিকে সম্পৃক্ত করে কোন
ফাতওয়া দেয়ায় সমস্যা
নেই।”
[মাজমু`উ ফাতাওয়া ওয়া
রাসাইলিল `উসায়মীন :
২৬/৪০৯]
.
ইদানীং কিছু অনলাইন
মুফতিকে দেখা যাচ্ছে যে,
আলিম না হওয়ার পরেও
নিজে নিজে ফেবুতে
ফাতাওয়া বিলি করছেন !
“আমার মতে”
“আমি মনে করি”
“আমার গবেষণায়”
ইত্যাদি ভাষ্য প্রয়োগ করে
দ্বীনের ক্রিটিক্যাল
বিষয়গুলোতে কলম
চালাচ্ছেন যা এক্কেবারেই
গর্হিত কাজ!
যদি বলি – ভাই আলিমদের
কলম কেড়ে নিচ্ছেন কেন?
তখন প্রত্যুত্তরে আলিমদের
তওহীন করে মুখ ভেংছিয়ে
বলে ফেলে “শুধু কি
আলিমরাই ফাতওয়া দিবে?
তারাই কি দ্বীনের
তাবেদারী করবে? কোরআন,
হাদিস কি শুধু আলিমগনই
বুঝেন? আমরা কি কিছুই বুঝি
না? ইত্যাদি ..!
(ইন্নালিল্লাহ)
অতি উৎসাহী এসকল ভাইদের
বলবো –
হে প্রিয় ভাইগন!
আগে নিজে আলিম-
উলামাদের কাছ থেকে
দ্বীন শিখুন তারপর তা
ইখলাসের সহিত মানুষের
কাছে পৌঁছে দেওয়ার
অবশ্যই অনুমতি আছে। মুলত
যারা সত্যিকার অর্থেই
দ্বীন সম্পর্কে প্রয়োজনীয়
জ্ঞান অর্জন করেছেন,
তাঁদের উপর দাওয়াতের এই
মহান কাজ করা ‘ফরয’। কিন্তু
আপনি ফতওয়া দেওয়ার মতো
যোগ্যতা অর্জন না করেই
নিজে নিজে ফতওয়া দেওয়া
শুরু করা হারাম, এমনকি
কখনো সেটা কুফুরীর মতো
জঘন্য কাজ হিসেবেও
বিবেচিত হতে পারে! এ
প্রসঙ্গে
নাবী সাল্লাল্লাহু
আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন, “যে ব্যক্তি
(বিশুদ্ধ) জ্ঞান ছাড়া
ফতওয়া দেয় এর গুনাহ ফতওয়া
দাতার ওপর বর্তাবে।” আবু
দাউদঃ ৩৬৫৭, হাদীসটি
হাসান সহীহ, শায়খ
আলবানী।
.
আন্দাজে বা অল্প ইলম নিয়ে
হালালকে হারাম বলে
ফতোয়া দেওয়া অথবা
হারাম জিনিসকে হালাল
বলে ফতোয়া দেওয়া কুফুরী
কাজ এবং এর দ্বারা
আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ
করা হয়। আল্লাহ তাআলা
কুরআনে কঠোরভাবে নিষেধ
করে বলেছেন “তোমরা
জিহবা দিয়ে (মনগড়া
ফতোয়াবাজী করে) বলোনা
এইটা হালাল, এইটা
হারাম”এর শাস্তি অত্যন্ত
ভয়াবহ,
এমনকি এর দ্বারা কেউ দ্বীন
থেকে খারেজ হয়ে কাফেরও
হয়ে যেতে পারে
(নাউযুবিল্লাহি মিন
যালিক)!
আশ শাইখুল আল্লামাহ, ইমাম
নাছির উদ-দ্দীন আল
আলবানী
ﻪﻠﻟﺍ ﻪﻤﺣﺭ
বলেন, “মুসলিম বিশ্বের সকল
শিক্ষার্থী ও দাঈ ভাইদের
প্রতি আমার নাসীহাত হল,
তারা যেন ধৈর্য্য সহকারে
জ্ঞানার্জন করে এবং
নিজেদের অর্জিত জ্ঞান
নিয়ে আত্মপ্রতারণার
শিকার না হয়। তারা যেন
এককভাবে নিজেদের বুঝ
মোতাবেক না চলে। অর্থাৎ
তাদের একক `ইজতিহাদে`র
উপর নির্ভর করে ফাতওয়া
না দেয়। কেননা আমি অনেক
ভাইয়ের নিকটে শুনেছি,
তারা নিজেদের ভুল হতে
পারে এরূপ চিন্তা -ভাবনা
ছাড়াই এবং কোন পরিণাম
বিবেচনা না করেই খুব
সহজেই বলছে, `আমি এ বিষয়ে
ইজতিহাদ করেছি।` বলছে,
`এটা আমার মত`, `এটা আমার
মত নয়` ইত্যাদি। যখন
তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়,
তুমি কিসের ভিত্তিতে এরূপ
ইজতিহাদ করলে? তুমি কি
এক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাত,
সাহাবা ও তাবেঈন এবং
উলামায়ে কেরামের
ঐক্যমতের উপর নির্ভর করেছ?
না নিজস্ব চিন্তা -ভাবনা ও
ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির উপরে
ইজতিহাদ করেছ? বাস্তবে
দেখা যায়, সে এটাই
(শেষেরটাই) করেছে। আমি
মনে করি এর মূল কারণই হল
তাদের আত্মঅহমিকা ও
নিজের ব্যাপারে অতি
সুধারণা।”
[মাসিক আত তাহরীক, জুলাই
২০১৩, পৃঃ ২২]
আল্লাহতাআলা আমাদেরকে
যাবতীয় ফিতনা থেকে
হিফাযত করুন। আমীন।
-ইছলাহ্
-সৌদি আরব-The Land of
Tawheed
-DAILY HADIS

Daily Hadits

Author: Daily Hadits

আল্লাহ্ এক

Leave a Reply