জেনে রাখুন কিয়ামতের ছোট কিছু আলামত।

আস্সালামুআলাইকুম।আশা করি সকলে ভালো আছেন মহান আল্লাহর ইচ্ছায়।মুসলমানদের জানা প্রয়োজন কিয়ামত সমন্ধে।
কিয়ামত
অবধারিত একটি বিষয়।
পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে,
একদিন ধ্বংস হবে।
মহান আল্লাহ পাকের
এই ঘোষণা চিরন্তন।
পৃথিবী ধ্বংসের
দিনকে কেয়ামতের
দিন হিসেবে আখ্যা
দেয়া হয়েছে। হাদিসে এ
দিনটির আসার বেশ
কিছু আলামত বর্ণন
করা হয়েছে।
আলামতগুলো
জানিয়েছেন,
নারীর
সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে,
বাড়বে পুরুষ।
নবী সা. বলেন,
‘কিয়ামতের আলামত
হচ্ছে, মহিলার সংখ্যা
বৃদ্ধি পাবে এবং পুরুষের
সংখ্যা কমে যাবে।
এমনকি পঞ্চাশ জন
মহিলার দেখাশুনার
জন্যে মাত্র একজন
পুরুষ থাকবে।’ বুখারি,
অধ্যায় : কিতাবুল ইলম
এই হাদিসের ব্যাখ্যায়
বলা হয়েছে, কেয়ামতের
পূর্বে ফিতনার সময়
ব্যাপক যুদ্ধ হবে।
যুদ্ধে যেহেতু কেবল
পুরুষেরাই অংশগ্রহণ
করে থাকে তাই যুদ্ধে
অংশগ্রহণ করে পুরুষেরা
অকাতরে
নিহত হবে।
ফলে পুরুষের তুলনায়
নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি
পাবে, ইমাম ইবনে
হাজার আসকালানি র.
এই মতটিকে
প্রত্যাখ্যান করে
বলেন, হাদিসের
প্রকাশ্য অর্থ হলো,
কোনো কারণ ছাড়াই
শুধু কিয়ামতের আলামত
হিসেবে নারীর সংখ্যা
বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ
তায়ালা আখেরি
জামানায় পুরুষের
তুলনায় বেশি নরী
সৃষ্টি করবেন।
বর্তমানে এ আলামতটি
প্রকাশিত হতে দেখা
যাচ্ছে। কোনো
কোনো দেশে জরিপ
করে দেখা গেছে,
পুরুষের তুলনায় নারীর
সংখ্যা অনেক বেশি।
ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি
পাবে। মোটকথা
স্বভাবগত ও যুদ্ধ উভয়
কারণে পুরুষের সংখ্যা
কমতে পারে।
ধর্ষণ-ব্যভিচার বৃদ্ধি
পাবে
আল্লাহ ও রাসুল সা.
ব্যভিচার হারাম
করেছেন। এটি হারাম
হওয়া অতি সুস্পষ্ট
বিষয়। এমন কোনো
মুসলিম নারী পুরুষ
পাওয়া যাবে না যে এর
হারাম হওয়া সম্পর্কে
অবগত নয়। আল্লাহ
তায়ালা বলেন, ‘আর
তোমরা ব্যভিচারের
কাছেও যেও না। নিশ্চয়
এটা অশ্লীল কাজ এবং
খুবই মন্দ পথ।’ সুরা
বনি ইসরাইল : ৩২
ব্যভিচারের ইহকালীন
শাস্তি হলো বিবাহিত
হলে রজম করা তথা
পাথর মেরে হত্যা করা।
আর অবিবাহিত হলে
একশত বেত্রাঘাত
করা। সহিহ বুখারিতে
সামুরা বিন জুনদুব রা.
হতে বর্ণিত রাসুল সা.
এর স্বপ্নের দীর্ঘ
হাদিসে কবরে
ব্যভিচারীর ভয়াবহ
শাস্তির বর্ণনা
এসেছে। তিনি বলেন,
‘আমরা একটি তন্দুর
চুলার কাছে গেলাম। যার
উপরিভাগ ছিল
সংকীর্ণ এবং ভেতরের
অংশ ছিল প্রশস্ত। তার
ভেতরে
আমরা কান্নার
আওয়াজ শুনতে পেলাম।
দেখতে পেলাম, তাতে
রয়েছে কতগুলো উলঙ্গ
নারী-পুরুষ। তাদের
নিচের দিক থেকেই
আগুনের শিখা
প্রজ্বলিত করা হচ্ছে।
অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত
হওয়ার সাথে সাথে তারা
উচ্চস্বরে চিৎকার
করছে। রাসুল সা. কারণ
জানতে চাইলে
ফেরেশতাদ্বয় বললেন,
এরা হলো আপনার
উম্মাতের ব্যভিচারী
নারী পুরুষ।’ বুখারি
অধ্যায় : কিতাবুত
তাবির।
কিয়ামতের পূর্বে
উম্মতে মুহাম্মাদীর
মধ্যে এই পাপের
কাজটি ব্যাপকভাবে
ছড়িয়ে পড়বে। নবী সা.
বলেন, ‘নিশ্চয়
কিয়ামতের অন্যতম
আলামত হচ্ছে ইলম
উঠিয়ে নেয়া হবে এবং
মানুষের মাঝে অজ্ঞতা
বিস্তার লাভ করবে,
মদ্যপান ছড়িয়ে পড়বে
এবং মুসলমানেরা
ব্যভিচারে লিপ্ত
হবে।’ বুখারি, অধ্যায় :
কিতাবুল ইলম।
তিনি আরো বলেন,
‘আমার উম্মাতের
একটি দল জেনাকে
হালাল মনে করবে।’
বুখারি, অধ্যায় :
কিতাবুল আশরিবা।
মারামারি ও
হত্যাকান্ড বৃদ্ধি পাবে
নবী সা. বলেন, ‘হারজ
বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বে
কিয়ামত হবে না।
সাহাবিগণ জিজ্ঞেস
করলেন, হে আল্লাহর
রাসুল! হারজ কী?
উত্তরে তিনি বললেন,
হত্যা, হত্যা।’ বুখারি,
অধ্যায় : কিতাবুল
ফিতান।
নবী সা. আরো বলেন,
‘ওই আল্লাহর শপথ!
যার হাতে আমার জীবন
ততদিন দুনিয়া ধ্বংস
হবে না যতদিন না
মানুষের কাছে এমন
সময় আসবে যখন
হত্যাকারী বুঝতে
পারবে না কেন তাকে
হত্যা করা হচ্ছে। নবী
সা. কে বলা হলো
তাদের অবস্থা কেমন
হবে? উত্তরে তিনি
বললেন, হত্যাকারী
এবং নিহত ব্যক্তি
উভয়ই জাহান্নামে
যাবে।’ মুসলিম, অধ্যায়
: কিতাবুল ফিতান।
নবী সা. এর বাণী সত্য
প্রমাণিত হয়েছে।
উসমান রা. এর হত্যার
পর সাহাবিদের যুগে
মুসলমানদের পরস্পরের
মধ্যে যে সমস্ত যুদ্ধ
হয়েছে তাতে অসংখ্য
মানুষ নিহত হয়েছে।
পরবর্তীতে বিভিন্ন
ইসলামি অঞ্চলে অসংখ্য
যুদ্ধ হয়েছে। অধিকাংশ
ক্ষেত্রেই কারণ ছিল
অস্পষ্ট। বর্তমানে
ইসলামি দেশগুলোতে
যে সমস্ত গৃহযুদ্ধ,
মারামারি ও হত্যাকা-
সংঘটিত হচ্ছে তাতেও
উল্লেখযোগ্য কোনো
কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে
না। সামান্য কারণে
একজন অন্যজনকে
হত্যা করছে। মনে
হচ্ছে মানুষ যেন
একেবারেই মূল্যহীন।
সময় দ্রুত চলে যাবে
কেয়ামতের পূর্ব
মুহূর্তে সময় দ্রুত চলে
যাচ্ছে বলে মনে হবে।
নবী সা. বলেন, ‘সময়
ছোট হয়ে যাওয়ার
পূর্বে কেয়ামত
প্রতিষ্ঠিত হবে না।
এক বছরকে একমাসের
সমান মনে হবে। এক
মাসকে এক সপ্তাহের
সমান মনে হবে। এক
সপ্তাহকে একদিনের
মত মনে হবে এবং এক
দিনকেই এক ঘন্টার
সমান মনে হবে।’
মুসনাদে আহমাদ ও
তিরমিজি।
ইমাম আলবানি সহিহ
বলেছেন, সহিহুল জামে
আস সাগির, হাদিস নং
৭২৯৯
আলেমগণ সময় ছোট
হয়ে যাওয়ার কয়েকটি
অর্থ করেছেন। ১. সময়
ছোট হয়ে যাওয়ার অর্থ
হলো সময়ের বরকত
কমে যাওয়া। আল্লামা
ইবনে হাজার
আসকালানি র. বলেন,
আমাদের সময়ে এই
আলামতটি প্রকাশিত
হয়েছে। সময় দ্রুত চলে
যাচ্ছে। অথচ আমাদের
যুগের পূর্বে এরকম মনে
হতো না। ২. কেউ কেউ
বলেছেন, ইমাম মাহদির
যুগে এটি সংঘটিত হবে।
কেননা তখন মানুষের
মাঝে চরম সুখ শান্তি
বিরাজ করবে। কারণ
সুখ শান্তি ও আনন্দের
মুহূর্তে সময় দীর্ঘ
হলেও খাট মনে হয়। আর
দুঃখ-কষ্টের মুহূর্তে
সময় দীর্ঘ হলেও তা
অনেক লম্বা মনে হয়।
সুদখোরের সংখ্যা বৃদ্ধি
পাবে
মুসলমানদের ওপর সুদ
আদান-প্রদান করা এবং
সুদের ব্যবসা হারাম
করা হয়েছে। আল্লাহ
তায়ালা বলেন, ‘হে
ঈমানদারগণ! তোমরা
চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ
গ্রহণ করো না। সুরা
আল-ইমরান : ১৩০
নবী সা. সুদখোরকে
অভিশাপ করেছেন।’
বুখারি, অধ্যায় :
কিতাবুল লিবাস
কেয়ামতের পূর্বে
মুসলমানদের মাঝে সুদ
গ্রহণ করা এবং সুদের
ব্যবসা ব্যাপকভাবে
বৃদ্ধি পাবে। নবী সা.
বলেন, ‘আমার
উম্মতের মধ্যে এমন
এক সময় আসবে যখন
সম্পদ কামাই করার
ব্যাপারে হালাল-
হারামের বিবেচনা করা
হবে না।’ তাবরানি
ইমাম মুনযেরী বলেন,
হাদিসের
বর্ণনাকারীগণ
বিশ্বস্ত,
আত তারগিব
ওয়াত তারহিব ৩/৯
তিনি আরো বলেন,
‘নিশ্চয় কিয়ামতের
আলামতের মধ্যে থেকে
অন্যতম আলামত হচ্ছে
সুদের প্রসার লাভ
করবে।’ বুখারি, অধ্যায়
: কিতাবুল বুয়
এছাড়াও তখন মারামারি,চুরি-ডাকাতি,রাহাজানি ইত্যাদি খারাপ কাজ বেড়ে যাবে,যেমনটি আইএ্যামে জাহেলিয়ার যুগে ছিল।এমনকি কিয়ামতের সময় কোন মুমিন লোক থাকবে না।আল্লাহ আমাদের সকলকে কিয়ামতের আলামত থেকে শিক্ষা নেওয়ার তৌফিক দান করুন।আমিন।ধন্যবাদ সকলকে।

One Reply to “জেনে রাখুন কিয়ামতের ছোট কিছু আলামত।”

Leave a Reply